Browsing Category

ওয়েব ডিজাইন

ইন্টারনেটে আয়, ওয়েব ডিজাইন,

কিভাবে একজন মোটামুটি মানের ওয়েব ডিজাইনার হতে পারবেন

ওয়েব ডিজাইন এই কি-ওয়ার্ড নিয়ে শুধু গুগলে ই মাসে সার্চ হয় 100K – 1M । এই বর্তমানে প্রতি ১ মিনিটে  প্রায় ৫৭১ টি নতুন ওয়েবসাইট তৈরি করা হচ্ছে।  তার মানে, ঘণ্টায় ৩৪২৬০। এবার ভাবুন মাসে কতগুলো! বর্তমানে প্রায় বিলিয়ের উপরে অ্যাক্টিভ ওয়েবসাইট রয়েছে পৃথিবীতে।

  • শুধুমাত্র আমেরিকাতেই ২০.১+ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মার্কেট রয়েছে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট খাতে
  • প্রতি মাসে পৃথিবীতে ১৬ মিলিয়নের বেশি ওয়েবসাইট তৈরি করা হচ্ছে
  • প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট-ই প্রিমিয়াম হয় অর্থাৎ, কাউকে না কাউকে টাকা দিয়ে করানো হয়ে থাকে
  • একজন মোটামুটি মানের ওয়েব ডিজাইনার সহজেই মাসে ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা ইনকাম করতে পারে ।




চলুন শুরু করা যাক কিভাবে একজন মোটামুটি মানের ওয়েব ডিজাইনার হতে পারবেন?

অনেকেই মনে করে অমুক তমুক নামি দামি কোচিং সেন্টারে তিন মাস কোচিং করে আমি এক্সপার্ট ওয়েব ডিজাইনার হয়ে যাব বা তারা আমাকে এক্সপার্ট ডিজাইনার বানিয়ে দেবে । তাদের জন্য এক বস্তা সমবেদনা আর কোন কোচিং সেন্টার যদি আপনাকে এমন গ্যারান্টি দিয়ে থাকে তাহলে তারা হয়তো আপনাকে বড় ধরনের আবাল বানানোর প্রচেষ্টায় আছে ।


আমি stackoverflow এর একটা প্রতীবেদনে দেখেছিলাম ৬৯% বা তার বেশি ডিজাইনার কাজ শিখেছেন নিজে নিজে । তাহলে আপনি পারবেন না কেন ? একটা কথা একটু চিন্তা করেন তো যেখানে একটা জাতীয় মানের চাকুরী পাবার জন্য আপনাকে কি পরিমান জানতে বা শিখতে হয় । আর আপনি তো চাচ্ছেন আন্তর্জাতিক মানের কাজ করতে তাহলে আপনার কি পরিমান জানার বা শেখার প্রয়োজন । আমি এখানে যে টার্গেট টা আলোচনা করতেছি সেইটা ফলো করলে আপনি একজন মোটামুটি মানের ডিজাইনার হতে পারবেন ।আপনাকে মোটামুটি ২ ( দুই ) বছর কাজে শেখার পেছনে সময় দিতে হবে তার পর টাকা ইনকামের চিন্তা মাথাই আনাতে হবে। তার আগেও হয়তো টাকা ইনকাম করা সম্ভব কিন্তু আমি সাজেশন দিব আপনি ২ ( দুই ) বছর কাজে তখন আর আপনাকে কাজ পাওয়া নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। এই দুই বছরকে কাজ শেখার জন্য যে প্রসেস অনুসরণ করবেন ।






১ তিন মাসঃ প্রথম তিন মাস আপনি ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট রিলেটেড বাংলা বিভিন্ন ফোরাম ফেসবুক গ্রুপের ডক পরে একেবারে শেষ করে ফেলবেন। বুঝেন আর না বুঝেন সমস্যা নাই কিন্তু সব পড়ে ফেলবেন ।
২ তিন মাসঃ এই তিন মাসের প্রথম দুই মাস আপনি HTML, CSS, HTML5, CSS3 এইগুলা নিয়ে পড়াশুনা করবেন তার পরের এক মাস ব্যাসিক ওয়েব ডিজাইন নিয়ে পড়াশুনা করবেন এবং প্র্যাক্টিস করবেন ।
৩ তিন মাসঃ এই তিন মাসের আপনি PSD to HTML, Responsive web design, Bootstrap এবং বিভিন্ন jQuery প্লাগীনের ব্যবহার নিয়ে কাজ করবেন।
৪ তিন মাসঃ এই তিন মাস সময় আপনি JavaScript এর পেছনে ব্যয় করবেন । পাশাপাশি আগের গুলা অনুশীলন করবেন।
৫ তিন মাসঃ এই তিন মাস আপনি PHP এবং MySql এর পেছনে ব্যয় করবেন । পাশাপাশি আগের গুলা অনুশীলন করবেন।


এর পর টানা ৬ মাস আপনি যেইটা নিয়ে কাজ করতে চান Joomla বা WordPress বা Magneto বা অন্য যেইটা নিয়ে আপনি কাজ করতে চান সেইটা নিয়া কাজ করবেন। সাথে থাকবে সার্ভার নিয়ে কাজ করা, অনুশীলন করবেন আর আগের ব্যাপার গুলা ।


আর শেষের তিন মাস মার্কেটপ্লেস নিয়ে গবেষণা করবেন ।এই দুই বছর যাই শিখেন না কেন তার সাথে চলবে ইংরেজি চর্চা । আপনার দুই বছর শেষ। এইবার কাজ শুরু করে দেন ইনশাআল্লাহ্ আপনার আর পেছনে তাকাতে হবে না।
এই ভাবে বেশ কয়েক বছর কাজ করতে থাকেন, দেখবেন আপনি নিজেই এক সময় বুঝতে পারবেন আপনি একজন এক্সপার্ট ডিজাইনার হয়ে গেছে ।

হ্যাপি ফ্রীলাঞ্চিং …




ওয়েব ডিজাইন,

ব্যবসা ছোট হলেও ১০ কারণে আপনার ওয়েব সাইট থাকতেই হবে

ওয়েব সাইট শব্দ টা আগে আমাদের কাছে খুব পরিচিত ছিল না। খুব কম মানুষ ই এই ওয়েব সাইট সম্পর্কে জানত । কিন্তূ এখন সময় পরিবর্তন হয়ছে। আমাদের দেশে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে, বাড়ছে ব্যবসা। কিন্তু ঠিক কতটি ব্যবসা প্রতিদিন প্রযুক্তির কাছে আসছে? সংখ্যাটা খুব একটা বেশী না। কারণ আমাদের অনেকেরই ধারণা যে ব্যবসায় প্রযুক্তির ব্যবহার এখনও বাংলাদেশে এতটা গুরুত্বপূর্ণ না। আপনার ধারণাও যদি এমনটিই হয়ে থাকে, তাহলে ভূল ভাবছেন। কারণ দিন বদলাচ্ছে প্রতি দিনই। মানুষ এখন অনেক বেশী প্রযুক্তি নির্ভর। আর তাই আপনার ব্যবসা যত বড় বা ছোট হোক, ওয়েব সাইট আপনার লাগবেই। যদি এখনও কারণ খুজে না পান, পড়তে থাকুন, আমি মাত্র ১০টি পয়েন্ট দিয়ে আপনাকে বোঝানোর চেষ্টা করব। তাই আমার আজকের এই পোস্ট এর শিরোনাম “ব্যবসা ছোট হলেও ১০ কারণে আপনার ওয়েব সাইট থাকতেই হবে” । চলুন শুরু করি ।




১. প্রচার

বলা হয়ে থাকে প্রচারেই প্রসার। আপনি যা নিয়ে ব্যবসা করছেন, আপনার ওয়েব সাইট হচ্ছে সেই ব্যবসার জন্য আপনার একটি বিজনেস কার্ড। যেখানে মানুষ চাইলেই আপনার সকল পন্য অথবা সেবা সম্পর্কে জানতে পারবে, পারবে আপনার অফিসের লোকেশন, অথবা আপনার ফোন নম্বর পেতে। জানতে পারবে আপনার পন্য বা সেবাই কেন বেছে নিবে।আপনার ওয়েবসাইট থেকে হাজার হাজার মানুষ যেকোনো সময় আপনার সেবা কিংবা ব্যবসা  সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবে কিন্তূ আপনি কি আপনার অফিস এ লোক দিয়ে এ মানুষ কে একসাথে এই সেবা দিতে পারবেন ?

২. সহজ প্রাপ্যতা

আগেই অবশ্য এই কথাটা বলে ফেলেছি, তবুও বলছি। ওয়েব সাইট মানে আপনাকে সহজেই পাওয়া যাবে। ধরেন আমি থাকি কল্যানপুরে, আর আপনার ব্যবসা উত্তরায়। আপনার ওয়েব সাইট থাকলে আমি আপনাকে সহজেই খুজে পাব, সেটা নিউ-ইয়র্কে হলেও, কিন্তু ওয়েব সাইট না থাকলে কি হতে পারে তা তো সহজেই বুঝতে পারছেন।প্রত্যেকটা ওয়েবসাইট এর কিছু মৌলিক পেজ কিংবা বাংলা বললে ওয়েবসাইট এর পাতা থাকে । এই যেমন Home, About, Services, Portfolio, Contact. এই Contact পেজের মাধ্যমে আপনাকে ও আপনার ব্যবসা প্রতিস্তান সহজেই খুজে । কারন প্রত্যেক টা ওয়েবসাইট এর Contact পেজ এ ইমেইল, ফোন নাম্বার, লোকেশান সাথে গুগল ম্যাপ দেওয়া থাকে।

৩. ব্যবসা খোলা দিনের ২৪ ঘন্টা, সপ্তাহে ৭দিন, বছরে ৩৬৫ দিন

আপনি কি আপনার ব্যবসা  কে ২০ ঘন্টা চালু রাখতে পারবেন । আপনার হয়ত একটা স্টোর নিবেন, খোলা রাখবেন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত, কিন্তু ওয়েব সাইট তো খোলা থাকবে ২৪ ঘন্টা। আপনাকে হয়ত কাষ্টমার ফোন করতে পারবে সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত, কিন্তু আপনার কন্টাক্ট পেইজ খোলা থাকবে ২৪ ঘন্টাই। এমনকি ছুটির দিনেও, বা আপনি যদি ছুটিতে দেশের বাইরেও থাকেন, তবুও কাষ্টমার আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারবে সহজেই। এই আপনি অবশ্যই অন্যদের চেয়ে বেশি ব্যবসা  করবেন যাদের ওয়েবসাইট নেই ।

৪. আপনার ব্যবসার জন্য এটা একটা স্টাইল

ধরেন এই মুহূর্তে আপনি একটা পন্য হাতে পেলেন, কিন্তু পন্যটি কি করে ব্যবহার করতে হবে তা জানেন না। আপনি কি করবেন? আমি চোখ বন্ধ করে বলে দিতে পারি যে আপনি এটার ব্যবহার কি করে করে তার জন্য তাদের ওয়েব সাইট খুজবেন। কিন্তু যদি ঐ পন্যের কোন ওয়েব সাইট না থাকে? তাহলে আপনি ধরেই নিবেন যে এটার আসলে অবস্থা ভাল না। ঠিক তেমনিই আপনার পন্য বা সেবার জন্য যদি কোন ওয়েব সাইট না থাকে, তাহলে আপনিও কাষ্টমারের মনে জায়গা করতে পারবেন না। কিন্তু আপনার একটি ওয়েব সাইট আপনাকে আলাদা একটি স্টাইল দিবে, যার ফলে আপনি সহজেই আপনার কাষ্টমারকে আকৃষ্ট করতে পারবেন।



৫. আপনার সময় বাচাঁনোর উপায়

আপনার ওয়েব সাইটে আপনি সহজেই আপনার পন্য/সেবার সব বিস্তারিত তুলে ধরতে পারেন, আর লিষ্ট করতে পারেন সচরাচর কাষ্টমাররা যা জিজ্ঞাসা করে তা, এবং তার উত্তর যাকে Frequently Asked Questions (FAQ) বলে। আর এটি করাতে আপনি সহজেই আপনার কাষ্টমারকে জানাতে পারবেন আপনার প্রোডাক্টের সব বিস্তারিত। বার বার এর জন্য আপনাকে ফোন কলের উত্তর করা বা ইমেইলের উত্তর করতে হবে না।

৬. বাড়াবে কাষ্টমার সার্ভিস; বাড়াবে বিশ্বাস

ওয়েব সাইট থাকা আপনার কাষ্টমারকে ভাল কাষ্টমার সার্ভিসের বিষয়ে আশ্বস্ত করে। আর আগে যেমনটা বলেছি, FAQ এর মাধ্যমেই হয়ত কাষ্টমার অনেক সার্ভিস পেয়ে যাবে, আর তাতে বাড়বে কাষ্টমার সার্ভিসের মান। আর ফোরাম তৈরী করে অন্য কাষ্টমারদের কাছ থেকে যাতে তারা সাহায্য পেতে পারে, তারও ব্যবস্থা করতে পারেন।

৭. আপনার অনলাইন শো-রুম

আপনার ব্যবসা কোন সেবা বা পন্যই হোক না কেন, আপনি চাইলেই আপনার সব কিছু এখানে রাখতে পারেন যাতে সবাই তা দেখতে পারে। ধরনে আপনি একজন ওয়েব ডিজাইনার, আপনার কাজের স্ক্রীণশট, বা লিংক আপনি সহজেই দিয়ে রাখতে পারবেন, তার ফলে একজন আপনার সাইটে এসেই দেখতে পারবে আপনার কাজ। আবার হয়ত আপনি বুটিকস সপ দিয়েছেন, আপনার সব পন্য দাম সহ এবং কি কি সাইজ, কি কি রং এ পাওযা যায় সবই রাখতে পারবেন আপনার ওয়েব সাইটে। আর যদি আপনার ব্যবসা বায়িং হাউজের হয়, তাহলতো ওয়েব সাইট লাগবেই লাগবে।

৮. টার্গেট করুন আর একটু বেশী

এলাকায় একটা স্টোর মানে শুধু এলাকাতেই বিক্রি, এলাকাতেই পরিচিতি, কিন্তু ওয়েব সাইটের মাধ্যমে সহজেই আপনি অন্য এলাকাতেও পরিচিতি পেতে পারেন। আচ্ছা, আপনি হয়ত এখন বলবেন যে আপনার ব্যবসার এমন অবস্থা না যে অন্য এলাকায় যাবেন, কিন্তু একটু হিসাব করুন। ধরেন আপনার একটা চা-বার আছে, অন্য এলাকা থেকে একজন এখানে এসে যদি গুগলে সার্চ দেয় আড্ডা দেবার জায়গার খোজে, আর পেয়ে যায় তাহলে ঐ লোক হয়ত আপনা কাছেই আসবে।

৯. আপডেটেড রাখুন সবাইকে

নিজের ওয়েব সাইটে যখন একজন রেজিষ্ট্রেশন করছে, বা সাবস্ক্রাইব করছে, তখন আপনি পেয়ে যাচ্ছেন তার ইমেইল এড্রেস, এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে কারও ফোন নম্বর। আর তাদেরকে আপনি চাইলেই এর পর থেকে আপনার কোন পন্যের আপডেট বা নতুন কোন পন্যের তথ্য জানাতে পারবেন সহজেই। এমনকি কোন অফার, কোন ছাড়া, বা কোন উপহার চাইলেও দিতে পারেন এখান থেকে।

১০. একটি ওয়েব সাইট টাকা বাচাঁয়

এই বিষয়টা নিয়ে যদি বিস্তারিত আলোচনা করা লাগে, তাহলে আমি বলব উপর থেকে আবার পড়ুন, আবার ভাবুন। একটা ওয়েব সাইট থাকার ফলে আপনি যা যা সহজেই করতে পারবেন তা কি অন্য কিছুতে পাবেন? বা পেলেও কত খরচ পড়বে? এটা হিসাব করে শেষ করতে পারবেন না। একটা ওয়েব সাইট বানাতে প্রাথমিক ভাবে সর্বমোট ১০-২০ হাজার টাকা লাগে, আর বছরে লাগে ২০০০-৪০০০ টাকা, যা আপনার পত্রিকা বিলের থেকেও কম। কিন্তু এটি আপনাকে প্রচারণার এবং সাফল্যের অন্য এক মাত্রায় নিয়ে যাবে। যা আপনি টাকার অংকে কখনই হিসাব করতে পারবেন না।

আশাকরি সবার লেখাটি কাজে লাগবে, এবং সাহায্য করবে। বিশেষ করে যারা দ্বিধাদন্দে আছেন যে আপনার ব্যবসার জন্য ওয়েব সাইট করবেন কি করবেন না, তাদের সহোযোগীতা করবে। আমার সাজেশন, ব্যবসা আছে, আর ওয়েব সাইট করাবেন না, তা উচিত না।

আমি নিজে একজন ওয়েব ডিজাইনার, করেছি বিভিন্ন ওয়েব সাইট ডিজাইনের কাজ। দেখেছি ছোট ছোট কম্পানি কি ভাবে এগিয়ে যায় তাদের ব্যবসা নিয়ে, তাই আমি বলব, আপনার ব্যবসা আছে, মানে আপনার একটি ওয়েব সাইট দরকার। আবার একটি ওয়েব সাইট দরকার মানে সুন্দর সুগঠিত ওয়েব সাইট দরকার। তা যেন কোন ভাবেই এমন না হয় যে কাষ্টমার আপনার সাইটে এসে খারাপ একটা ধারণা নিয়ে চলে গেল। আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন




ওয়েব ডিজাইন,

সুরক্ষিতঃ আমি ফয়সাল ওয়েব ডিজাইনার ,ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপার, ফ্রীলাঞ্চার

এই বিষয়বস্তু পাসওয়ার্ড দ্বারা সুরক্ষিত। এটি দেখতে আপনার পাসওয়ার্ড দিন: